October 24, 2020

কুরবানীর নিয়ম কানুন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

Spread the love

আল্লাহ সামার্থ্যবান মুসলমানদের উপর কুরবানী ওয়াজিব করেছেন। তবে আমরা যদি কুরবানী বলতে শুধু পশু যবাই বুঝি,তাহলে ভূল করবো। কুরবানী শুধু পশু যবাই করা নয়,ইসলামের অন্যান্য ইবাদতের মতো কুরবানীতে ও শিক্ষা রয়েছে। যেমন আমরা পশু কুরবানী করার প্রতি গুরুত্ব দিই। ঠিক তেমনি কুরবানীর নিয়ম কানুন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বিষয় সম্পর্কে গুরুত্ব দিতে হবে।

কুরবানীর দিনের সুন্নাত সমূহ

কুরবানি দিনে কোনো কিছু না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। কুরবানি দিনে ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর বলা সুন্নাত। ঈদুল আযহার নামাজ, ঈদুল ফিতর অপেক্ষা অধিক আগে পড়া সুন্নাত। ঈদের নামাজের পর সক্ষম ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব।

কুরবানীর পশুর বয়স

উট নিম্নে ৫ বছর হওয়া। গরু, মহিষ নিম্নে ২ বছর হওয়া। বকরী,ভেড়া,দুম্বা নিম্নে ১ বছর হতে হবে,এর কম হলে কুরবানী জাযেয হবে না। তবে হ্যাঁ ভেড়া বা দুম্বা যদি এতটুকু হৃষ্টপুষ্ট হয়। যা দেখতে এক বছরের মতো মনে হয় এবং এক বছর বয়সী ভেড়ার মাঝে ছেড়ে দিলে কোনো পার্থক্য বুঝা না যায়। এমতাব্স্হায় ৬ মাসের বয়সী ভেড়া দুম্বা দিয়ে কোরবানি জায়েয হবে। ( ফতোয়ায়ে হক্কানিয়া ৬/৪৬৮ পৃষ্ঠা)

কুরবানীর পশু যবেহ করার সুন্নাত তরীকা

উট যবেহ করার সুন্নাত তরীকা হচ্ছে – বামবাহু ও পা বেঁধে দাঁড় করিয়ে যবেহ করবে। গরু, মহিষ, বকরী, ভেড়া, দুম্বা যবেহ করার সুন্নাত তরীকা হচ্ছে – প্রথমত পশুর মুখ কিবলার দিকে রাখবে। অতঃপর নিজে কিবলামূখী হয়ে বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে গলার দিক হতে যবাহ শুরু করবে। আর যদি কুরবানির পশু হয় তবে পশু কিবলামূখী করে নিতে হবে। তারপর দোয়া পড়ে যবাহ করবে।

কুরবানীর পশু জবাই করার দোয়া

ইন্নী ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি। ফাত্বারাস সামাওয়াতী ওয়াল আরদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতী ওয়ানুসুকী ওয়া মাহ্য়ায়া ওয়ামামা-তী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর” বলে কোরবানির পশু জবেহ করার পর পাঠ করবেন। আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বাল মিন্নী (অংশীদার থাকলে- ‘ওয়া মিন’ বলার পর প্রত্যেকের নাম ও বাপের নাম বলবেন)। কামা তাক্বাব্বালতা মিন খলীলিকা ইব্রাহীমা আলাইহিস্ সালাম ওয়া হাবীবিকা মুহাম্মদিনিল্ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

আরো পড়ুনঃ

কুরবানির নিয়ম কানুন এবং ভাগ বন্টন

কুরবানির মাংস ৩ ভাগে ভাগ করতে হবে। ১ ভাগ গরীব ও ইয়াতিম-মিসকিনদের দান করতে হবে। আরেক ভাগ আত্মীয়-স্বজনকে দিতে হবে। এবং অন্য ভাগ নিজে রাখা মুস্তাহাব। তবে ইচ্চে করলে আপনি আপনার নিজের ভাগ থেকে ও কাউকে দিতে পারবেন।


কুরবানির গোস্ত বন্টন করার সময় আপনাকে একটা কথা মনে রাখতে হবে। কুরবানীর নিয়ম কানুন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা জানতে হবে। কুরবানীর পশু যবেহকারী ও মাংস প্রস্তুতকারীকে, কুুরবানীর পশুর মাংস থেকে পারিশ্রমিক স্বরূপ দেয়া যাবে না।

কুরবানীর জন্য যে সব পশু যায়েজ নয়

সুন্দর ও নিখুত পশু কোরবানির জন্য বাচাই করা উত্তম। পশু ঠিক মতো হাটতে না পারলে। যে সব পশু অন্ধ। যে সব পশু খোড়া। যে সব পশুর লেজ কাটা বা নাই। পশুর শিং কিংবা কান কাটা। যে সব পশুর যে কোনো অংঙ্গ বা দুর্বল ইত্যাদি কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়।

কুরবানীর তারিখ সমূহ

আরবি যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ হতে ১২ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ তিনদিন দুই রাত। তবে যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে কুরবানী করা উত্তম

কুরবানী যাদের উপর ওয়াজিব

আমাদের মধ্যে অনেক ধনী ব্যাক্তি আছে। তারা কুরবানী দিতে ইচ্ছে করেন না,তারা কুরবানীর নিয়ম কানুন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা জেনে নিন। ১. কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ মাল পূর্ণ এক বছর থাকা জরুরি নয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ১০ জিলহজ ফজর হতে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবে, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব।
২. পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যে পরিমাণ জমি বা ফসলের দরকার তা থেকে অতিরিক্ত জমি বা ফসলের মূল্য অথবা যে কোনো একটির মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মূল্যের সমান হয়। তাহলেও কুরবানি ওয়াজিব।

৩. পরিবারের সব সদস্যের যদি আলাদা-আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে সবার ওপর আলাদাভাবেই কুরবানি ওয়াজিব।
৪. গরিব ব্যক্তি যদি কুরবানির নিয়্যাতে গরুক ক্রয় করে তবে তার ওপরও কুরবানি ওয়াজিব।
৫. উদ্দেশ্য হাসিলে কুরবানির মান্নত করলে সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হলেও কুরবানি করা ওয়াজিব।

৬. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যত সম্পদের অধিকারী হোক না কেন তার ওপর একটি কুরবানিই ওয়াজিব। সম্পদ বেশি বলে একাধিক কুরবানি করতে হবে এমন কোনো বিধান নেই। অবশ্য একাধিক কুরবানি করলে অনেক ছাওয়াব লাভ হয়।

হালাল পশুর ৭ টি বস্তু খাওয়া নিষেধ

১. পশুর লিঙ্গ, অর্থাৎ গাভী, ছাগী ইত্যাদি পশুর প্রস্রাবের অংঙ্গ।
২. প্রস্রাবের থলি।
৩. গর্দানের ভিতরের হারাম মগজ।
৪. অন্ডোকোষ।
৫. পিত্ত।
৬. প্রবাহিত রক্ত যা যবেহ করার পর নির্গত হয়।
৭. গোশতের সে শক্ত টুকরা, যা রোগের কারনে গোশত ও চামড়ার মাঝে জমাট হয়ে থাকে।

কুরবানী মুুুুসাফির এর জন্য

যে ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলোতে মুসাফির থাকবে। (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার নিয়তে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে)। তার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। এটি একটি মাসায়ালা -ফাতাওয়া কাযীখান ৩/৩৪৪, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৫, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫

কুরবানীর শরীক সমূহ

৭ জন মিলে কুরবানী করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হতে পারবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরীকের কুরবানীই সহীহ হবে না। দন্ড দিয়ে সমান ৭ ভাগ করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা যাবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭


উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে করা যাবে। সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। কারো মনে কুরবানীর মাংস নিয়ে কোনো ক্ষুদ বা হিংসা থাকলে কারো কুরবানী হবে না। -সহীহ মুসলিম ১৩১৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭

3 thoughts on “কুরবানীর নিয়ম কানুন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

  1. লেখাটা খুবই ভালো হয়েছে। বাংলা ব্লগারের লেখার কোয়ালিটি দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করি, আপনারা আরো ভালো ভালো তথ্য নিয়ে হাজির হবেন।

  2. কুরবানীর নিয়ম কানুন সম্পর্কে সুন্দর আর্টিকেল। লেখক ভাইকে ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *