October 24, 2020

থানায় জিডি করার নিয়ম কানুন এবং উপকারিতা

Spread the love

জিডি হল সাধারণ ডায়েরি। আপনার মূল্যবান যে কোন জিনিস হারালে আপনি থনায় জিডি করতে পারেন। আপনার মূল্যবান জিনিসপত্র পিরে পাওয়ার জন্য জিডি করা ভালো। বেশির ভাগ মানুষ জিডি করার মাধ্যমে তার হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুজে পায়। কেউ আপনাকে মেরে ফেলবে হুমকি দিতেছে। কিন্তু আপনি কিছু করতে পারছেন না। আপনার সাথে কেউ নাই প্রতিবাদ করার জন্য। আপনি থানায় একটি জিডি করে রাখতে পারেন। হয়তো এই জিডির মাধ্যমে আপনি খুব সহজে তার থেকে বেঁচে যেতে পারেন। তাই থানায় জিডি করার নিয়ম কানুন এবং উপকারিতা সম্পর্কে জেনে রাখুন।

কি কি হারালে জিডি করতে পারবেন

আপনার গুরুত্বপূর্ণ যে কেনো জিনিস হারিয়ে গেলে জিডি করতে পারবেন। আপনার মূল্যবান কোনো জিনিস কেউ চিন্তাই বা চুরি করে নিয়ে গেলে আপনি জিডি করতে পারেন। আমি কিছু জিনিস এর নাম নিম্নে দিয়ে রাখলাম।
১.সার্টিফিকেট হারালে।
২.দলিল হারালে।
৩.লাইসেন্স ভুলে কোথায় পড়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে।
৪.পাসপোর্ট হারিয়ে ফেললে।
৫.মূল্যবান রশিদ এবং চেকবই হারিয়ে পেললে।
৬.এটিএম বা ক্রেডিট হারিয়ে ফেললে।
৭.স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ ইত্যাদি হারিয়ে ফেললে বা কেউ চুরি করে নিয়ে গেলে জিডি করে রাখতে পারেন।

আপনার নিরাপত্তার জন্য থানায় একটি জিডি করতেন পারেন

কেউ আপনাকে কোন প্রকার হুমকি দিয়ে বলবে, আপনাকে মেরে ফেলবে। এমন কি হুমকির আশংকা থাকলে। তখন নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় একটি জিডি করে রাখবেন।

আপনার ভাই বোন, পিতা মাথা বা আত্মীয় স্বজনরা কেউ হারিয়ে গেলে আপনি থানায় জিডি করতে পারেন। হয়তো এই জিডির মাধ্যমে আপনি আপনার আত্মীয় স্বজনদের খুজে পেলেন। অর্থাৎ সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয়না সেসব ক্ষেত্রেই থানায় জিডি করা যায়। জিডি করার কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নতুন করে হারানো কাগজ তুলতে হলেও জিডির কপির প্রয়োজন হয়।

জিডি মানে কি?

ইংরেজিতে জিডিকে বলা হয় General Diary এর সংক্ষিপ্ত রুপ হচ্ছে GD (জিডি)। যে পদ্ধতিতে আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ বা মূল্যবান জিনিস খুজে পাবেন। আপনার সম্পদ খুজে পাবেন। খুব সহজে আপনার আত্মীয় স্বজনদের খুজে পাবেন। আপনি বা আপনার কাছের মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়। সেই জন্য আপনি থানার কর্তৃপক্ষকে অগ্রিমভাবে জানিয়ে রাখতে পারেন তার নাম হলো জিডি।

আরো পড়ুনঃ ঔষুধের দাম জানার সহজ উপায়ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট খুলুন মাত্র ২ মিনিটেশিং মাছের কাটা হাতে ফুটলে কি করণীয়?

কোথায় এবং কিভাবে জিডি করবেন?

জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারণত বিপদের সময় প্রাধান্য দেওয়া হয়। কোন জাগায়, বা কোন সময় আপনি কারো হুমকির সম্মুক্ষীন হয়েছেন। এর মানে হচ্ছে, আপনার যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সেই এলাকার থানাতেই জিডি করা উচিত।

মনে করুন আপনার বাড়ি নোয়াখালী কিন্তু আপনি থাকেন সিলেট। আপনার কোন জিনিস যদি সিলেটে হারিয়ে যায় তাহলে আপনাকে সিলেট থানাতেই জিডি করতে হবে। যদিও আপনি সেই সময় নোয়াখালী অবস্থান করছেন। থানায় জিডি করার নিয়ম কানুন এবং উপকারিতা সম্পর্কে জেনে রাখুন।

আপনি থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদনপত্র দিবেন। একটি জিডির আবেদনপত্রে সাধারনত আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা, জিডি করার কারণ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

জিডি তদন্ত করার নিয়মাবলি

১. প্রথমে ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনূমতির চাহিয়া তদন্তকারী অফিসার আদালতের কাছে আবেদন করিবেন।

২. আদালতের অনুমতি প্রাপ্ত হয়ে তদন্তকারী অফিসার ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে যাবেন।

৩. প্রাপ্ত সাক্ষী প্রমানে বিবাদীরবিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে  প্রমানীত হইলে প্রমানীত হইলে তারবিরুদ্ধে প্রকাশ্য আদালতে বিচারের নিমিত্তে বিজ্ঞ আদালতের বরাবর নন এফ আইআর প্রসিকিউসন নিতে হয় ।

সার্টিফিকেট হারানোর জিডির আবেদনপত্রের একটি নমুনা

তারিখঃ…………………
বরাবর
অফিসার ইনচার্জ
……………… থানা,
………………… জেলা।

বিষয়ঃ সাধারন ডায়েরি করার আবেদন।

জনাব,
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নামঃ ………………………, বয়সঃ ………, পিতা/ মাতা/স্বামীঃ ……………………………………., ঠিকানাঃ …………………………………………. এই মর্মে থানায় হাজির হইয়া সাধারণ ডায়েরী করার আবেদন করিতেছি যে, আজ/গত ……………… ইং তারিখ সকাল অনুমান ……………. ঘটিকার সময় ………………….. হইতে ………………….. যাওয়ার সময় পথিমধ্যে আমার সার্টিফিকেট হারিয়ে যায়। উক্ত সার্টিফিকেটের কোড নাম্বার, রোল, রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ………………………………………. । উক্ত সার্টিফিকেটি সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোজাখুজি করিয়া কোথাও পাওয়া যায় নাই।

অতএব, বিষয়টি আপনার থানায় ভবিষ্যতের জন্য সাধারণ ডায়েরীভুক্ত করিতে মর্জি হয়।

বিনীত নিবেদক,
…………………(আবেদনকারীর সাক্ষর)
পূর্ণ নামঃ………………………………
ঠিকানাঃ ………………………………
ফোন নম্বরঃ …………………………..

থানায় জিডি করার নিয়ম কানুন জেনে রাখুন

১। জিডি করতে হলে আপনাকে একই আবেদনপত্রের দুটি কপি করতে হবে। প্রথম কপিটি থানায় নথিভুক্ত হবে এবং দ্বিতীয় কপিটি জিডি নম্বর, তারিখ, অফিসারের সাক্ষর ও সিলসহ আপনাকে দেওয়া হবে। উক্ত কপি আপনার নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।

২। জনাব ক জনাব খ এর বিরুদ্ধে জিডি করবেন। জনাব ক জনাব খ এর শুধু নাম ছাড়া আর কিছুই জানেন না। এক্ষেত্রে জনাব ক এর জিডি গ্রহণযোগ্য হবেনা।

৩। যদি জনাব ক জনাব খ গ ও ঘ এর বিরুদ্ধে জিডি করতে চান; আর যদি তিনি জনাব ক ছাড়া আর সবার তথ্য সরবরাহ করতে অসমর্থ হন, সেক্ষেত্রে তার উচিত হবে ক ও তার সহযোগী এভাবে জিডি করা।

৪। জিডি হওয়ার পর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা জিডিটি থানার ওসির কাছে পাঠাবেন। জিডিটি যদি আমলযোগ্য আপরাধ সংঘটনের মত বিষয় হয়, তবে থানা কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে অপরাধটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিবে এবং গৃহীত ব্যবস্থা পুনরায় আবেদনকারীকে অবহিত করা হবে।

অনলাইনে জিডি যে ভাবে করবেন

আবার পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া দেবার প্রয়োজন নেই। এমন ক্ষেত্রে যেমন পাসপোর্ট হারানো, বাখাটে বা মাদক সেবীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান। এজাতীয় ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করা যেতে পারে। এমন কি সরাসরি পুলিশ সদরদপ্তরে ফ্যাক্স বা ই-মেইল করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে দেশের বাইরে থেকেও জিডি করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করার পর ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিডি নম্বরটি জিডিকারীকে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ইমেইল: [email protected]

ফ্যাক্স: +৮৮০-২-৯৫৫৮৮১৮

অনলাইনে জিডি করার জন্য http://www.police.gov.bd সাইটে গিয়ে ‘Citizens help request’ –এ ক্লিক করতে হবে।

জিডির জন্য কি কি প্রয়োজন

যে বিষয়টি সম্পর্কে জিডি করা প্রয়োজন, সে বিষয়টি সম্পর্কে বিবরণ অংশে বিস্তারিত লিখতে হবে। হুমকি দাতার নাম, ঠিকানা, হুমকির স্থান ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। কিছু হারিয়ে গেলে তার বিস্তারিত বিবরণ এবং পারলে তার কোনো নমুনা। যেমন—ছবি দরখাস্তের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। সব শেষে নিচে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখতে হবে।

জিডি করার নিয়ম কানুন। ছবি সংগ্রহ

থানায় জিডি করার উপকারীতা

জিডি মানেই সাধারণ ডায়রি। আপনি এমন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়ে ফেলছেন। কিন্তু থানায় জিডি করার মাধ্যম অাপনি খুব সহজে জিনিসটা ফিরে পেয়েছেন। জিডি করা মানে আপনি আপনার চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুজে পাবেন এমন না। জিডি আপনাকে আপনার জিনিস ফিরে পাবার জন্য সাহায্য করে যাবে।

মনে করুন আপনার একটি দামি মোবাইল চুরি হয়ে গেছে। এখন আপনি মামলা করবেন না। এমন কি কার নামে মামলা করবেন? আপনার মোবাইল কে নিয়েছে আপনি তা জানেন না। তাই আপনি থানায় একটি জিডি করে রাখতে পারেন। তারপর খোজাখুজি শুরু করুন লোকেশন অনুযায়ী। হয়তো এই জিডির মাধ্যম আপনি আপনার মোবাইল ফোন ফিরে পাবেন। সবশেষেই একটা কথা বলি জিডি আপনার উপকারে আসবেই।

One thought on “থানায় জিডি করার নিয়ম কানুন এবং উপকারিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *