নতুন পাসপোর্ট করার নিয়ম | ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২২

আসসালামু আলাইকুম সম্মানিত প্রিয় পাঠক, আশা করি আপনারা ভালো আছেন। আমি ও আপানাদের দোয়া, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের জন্য যে বিষয়টি আলোচনা করবো, সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর বিষয়টি হলো নতুন পাসপোর্ট করার নিয়ম। তাহলে জেনে নিন পাসপোর্ট করার নিয়ম

অনেকে আছে নিজের একটা পাসপোর্ট বানাবে, কিভাবে বানাবে সেটা নিয়ে চিন্তিত থাকি। কি কি লাগতে পারে পাসপোর্ট তৈরী করতে, সেটা নিয়ে অনেক চিন্তিত। অনেকে পাসপোর্ট তৈরী করার জন্য অনেক ভাবে চেষ্টা করে থাকে। আবার দেখা যায়, পাসপোর্ট তৈরী করার জন্য মূল টাকার যেয়ে অতিরিক্ত টাকা ও খরচ করে থাকে।

পাসপোর্ট তৈরী করার নিয়ম

তাই আজ আমার আর্টিকেলে আলোচনা করবো, খুব সহজে কিভাবে পাসপোর্ট তৈরী করা যায়। আর পাসপোর্ট তৈরী করতে কি কি প্রয়োজন হতে পারে। পাসপোর্ট তৈরী করতে কত টাকা লাগবে। পাসপোর্ট আপনার হাতে আসতে কত দিন লাগতে পারে, এই বিষয় গুলো নিম্নে আলোচনা করবো।

অনেকে দালাল এর মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরী করতে দেয়। এতে দালাল অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। এমন ভোগান্তিতে প্রতিদিনি অনেক মানুষ পড়তেছে। আবার দেখা যায় দালাল এক সাপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট দিবে বলে,অনেক টাকা নিয়ে থাকে। কিন্তু এক মাস হয়ে গেলো পাসপোর্ট আাসার খবর নেই।

এতে অনেক সাধু মানুষকে ও মানুষ বিশ্বাস করে না সহজে। এতে মানুষের মাঝে বিশ্বস্তা হারিয়ে যায়। টাকা আর পাসপোর্ট নিয়ে দালাল এর সাথে ঝগড়া মারামারি করতে হয়। আর নয় দালাল, এখন আপনি নিজেই নিজের একটি পাসপোর্ট তৈরী করতে নিতে পারেন। যাই হোক তাহলে শুরু করা যাক নতুন পাসপোর্ট করার নিয়ম।

দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করার নিয়ম

আপনি আপনার নিকট তম স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে, পাসপোর্ট তৈরী করার নিয়ন জানুন। তাদের তথ্য মতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে, জমাদিন, সরকারী পিস অনুযায়ী টাকা দিয়ে দেন। আশা করি আপনার পাসপোর্ট খুব শীগ্রই আসবে।

দালাল কে না বলুন। নিজের পাসপোর্ট নিজেই করুন। কোন রকম দালাল ছাড়াই ৫৭৫০ টাকা সরকারি ফিস দিয়ে (২২- ৩০) দিনের মধ্যে পাসপোর্ট গ্রহণ করুন। পাসপোর্ট ৪৮ পৃঃ ১০ বছর মেয়াদ। আপনি পারেন না এবং ঝামেলা বলেই দালালের পিছনে দৌড়ান। কিন্তু দালাল আপনার পিছনে দৌড়ায় না।

সমস্ত ডকুমেন্টস আপনাকেই জমা দিতে হবে এবং গ্রহণও আপনাকে করতে হবে। দালাল আপনার সাথে যাবেনা। পুলিশ ভেরিফিকেশন আপনকেই ফেস করতে হবে।

পাসপোর্ট কি? পাসপোর্ট কেনো তৈরী করা হয়?

বাংলাদেশী পাসপোর্ট হলো একটি আইসিএও অনুগামী। অথ্যাৎ মেশিন রিডেবল এবং বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট পাসপোর্ট ধারীর দ্বারা বিদেশে ভ্রমণের উদ্দেশ্য জারি করা হয়। পাসপোর্ট দ্বারা এমন পরিচয় পত্র বুঝায়।

বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে, আপনি অন্যদেশে ভ্রমণ বা যব করতে হলে, আপনাকে পাসপোর্ট তৈরী করে নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ

জিমেইল একাউন্ট খোলার নিয়ম

সিম রেজিষ্ট্রেশন চেক করার নিয়ম

বিকাশে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার নিয়ম

পাসপোর্ট করতে কি কি প্রয়োজন?

১. ব্যাংক চালান ( আবেদন সামারি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি নিয়ে ব্যাংকে যাবেন। অফিসার টাকা নিয়ে চালান দিবে।)

৩ পাতার আবেদন ( যা অনলাইনে আবেন করলে পাবেন)। আবেদন সামারি ( যা আবেদন প্রিন্ট করতেই পাবেন)

২. নিজের আইডি কার্ডের ফটোকপি বা ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি

৩. মা বাবার আইডি কার্ডের ফটোকপি।

৪. বিবাহিত হলে, বউয়ের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং কাবিননামা ( বিবাহিত উল্লেখ করলে)।

৫. শিক্ষার্থী হলে আইডি কার্ড এর ফটোকপি।

৬. চাকুরী করলে প্রত্যয়ন পত্র।

৭. নির্বাচন অফিস থেকে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ভেরিফাই কপি।

এগুলো নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যাবেন। তারপর অফিসে বা আশে পাশে কত মানুষ দেখবেন। যে কোনো একজনের সাহায্য নিয়ে কাগজ পত্র গুলো সাজিয়ে নিবেন। বাকিটা সিস্টেমে আপনাকে টেনে নিবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে কি কি প্রয়োজন হবে?

police ভেরিফিকেশন করতে যা প্রয়োজন নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো।

১. নিজের জাতীয় পরিচয় পত্রের মূল কপি।

২. বাবা মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্রের মুল কপি।

৩. বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের ১ টা কপি। বাবার নামের হলেও সমস্যা নাই।

৪. চেয়ারম্যান সনদের মুলকপি।

সময় হলে পুলিশের এসবি শাখার অফিসার আপনার সাথে যোগাযোগ করে নিয়ম মোতাবেক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করবে।

আপনি নিজেই পজেটিভ হোন, নিজের কাজ পারলে নিজেই করুন। না পারলে দালালের মাধ্যমে করলেও সরকারের বদনাম বন্ধ করুন।

পাসপোর্ট আবেদন ফরম ডাউনলোড

আপনি নিজেই বা আপনার পাসপোর্ট এর আবেদন করতে হলে, অবশ্যই পাসপোর্ট ফরম প্রয়োজন হবে। পাসপোর্ট ফরম ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। দুটি ফরম দেখতে পাবেন। সেই গুলো ডাউনলোড করুন। কম্পিউটার দোকান থেকে প্রিন্ট করুন।

তারপর ফরমটি আপনার আপনার প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়ে পূরন করুন। তারপর কি করতে হবে, সেটি আগেই আলোচনা করছি। সেই অনুযায়ী আপনি কাজ করুন। আশা করি আপনি নিজেই নিজের পাসপোর্ট এর আবেদন করতে পারবেন।

ই পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২২

প্রিয় পাঠক এখন আমি আলোচনা করবো, আপনি কিভাবে ৫ বছর বা ১০ বছরের জন্য একটি ই পাসপোর্ট তৈরী করবেন। ই পাসপোর্ট করার জন্য অনলাইনে কিভাবে আবেদন করবেন। এমনকি কিবাবে আবেদন ফরম পূরণ করবেন, সেই বিষয় গুলো নিয়ে নিম্নে আলোচনা করলাম।

ই-পাসপোর্ট করার পদ্ধতি

২০২২ সালের ই পাসপোর্ট করার জন্য প্রথমে আপনাকে এই ওয়েবসাইটে ক্লিক করতে হবে। ওয়েবসাইটে ডুকার পর, তারা আপনাকে আপনার বিভিন্ন তথ্য দিতে বলবে। সেই তথ্য গুলো আপনি আপনার প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র দেখে, তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দিবেন। তারপর আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ অনুযায়ী আপনাকে কিছু টাকা পেমেন্ট করতে বলবে।

আপনি সেই অনুযায়ী টাকা পেমেন্ট করলে, তারা আপনাকে এসএমএস করবে। কিছু দিন পর আপনার পাসপোর্ট হয়ে গেলে তারা আপনাকে কল বা এসএমএস দিয়ে জানিয়ে দিবে। আপনি নিজেই আপনার পাসপোর্ট নিয়ে আসতে পারেন।

ই পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র

অনেকে জানে না পাসপোর্ট করার জন্য কি কি প্রয়োজন হতে পারে। তাই তাদের সুবিধার জন্য কি কি লাগতে পারে নিচে দেওয়া হলো।

১. ই পাসপোর্টের আবেদনের ফটোকপি।

২. শিক্ষাগত সনদ পত্র।

৩. জাতীয় পরিচয় পত্র।

৪. অ্যাপয়েনমেন্টের ফটোকপি এবং প্রিন্ট কপি।

৫. যদি আগে পাসপোর্ট থাকে, তাহলে সেই পাসপোর্ট এর ফটোকপি।

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন

আপনি পাসপোর্ট তৈরী করতে চাইলে, পুলিশ ভেরিফিকেশন তো প্রয়োজন হবেই। পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে কি কি প্রয়োজন হবে, আমি আগেই আলাপ করছি। আপনি যদি দালাল এর মাধ্যমে পুলিশ ভেরিফিকেশন করান। তাহলে দালাল আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওদের কিছু দিলে হয়ে যাবে।

আর আপনি যদি নিজেই পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে চান, তাহলে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জমা দিবেন। তারা আপনার সব কিছু যাচাই বাচাই করার পর আপনাকে সম্মতি দিবেন। হয়তে কিছু পরিমান টাকা ও চাইতে পারে।

পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম ২০২২

এইবার আপনাদরকে পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম বুঝাবো। আপনাদের আশে পাশে অনেকে আছে, দেখবেন পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তারা মেয়াদ বাড়াতে পারছে না, নিয়ম জানে না। দালাল ধরে থাকে এতে দালাল দের অনেক টাকা দিতে হয়। আর নয় দালাল, এখন আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে, আপনি নিজেই রিনিউ করতে পারবেন।

পাসপোর্ট রিনিউ করার পদ্ধতি

আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হলে, আপনি অনলাইনের মাধ্যমে পাসপোর্ট এর মেয়াদ বাড়ানের আবেদন করতে পারবেন। মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হলে, এই লিংকে ক্লিক করুন। তারপর আপনার আগের পাসপোর্ট এর সকল তথ্য দিয়ে দিন। টাকা পেমেন্ট করে অ্যাপ করে দিন।

তারপর কিছু দিনের মধ্যে আপনার মোবাইলে মেসেজ আসবে, আপনার পাসপোর্ট এর মেয়াদ বাড়ানো হলো। আপনি আপনার পাসপোর্ট নিয়ে আসতে পারেন, পাসপোর্ট অফিস থেকে।

পাসপোর্ট বয়সের সময়সীমা

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী আপনি ২ টি অপশন অনুযায়ী পাসপোর্ট তৈরী করতে পারবেন। নিম্নে দেওয়া হলো

১. ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের জন্য ১০ বছর মেয়াদী।

২. ১৮ বছরের কম বয়সী বা ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৫ বছর মেয়াদী

বাংলাদেশে কয় ধরনের পাসপোর্ট রয়েছে?

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার তিন ধরনের পাসপোর্ট ইস্যু করে। যা নিম্নে দেওয়া হলো।

১. লাল মলাট যা কূটনৈতিক পাসপোর্ট।

২. নীল মলাট যা দাপ্তরিক পাসপোর্ট।

৩. সবুজ মলাট যা নিয়মিত বা সাধারণ পাসপোর্ট।

সর্বশেষ কথা

আশা করি আপনাদের বুঝাতে পারলাম, কিভাবে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট এর আবেদন করবেন। যদি ভালো লেগে থেকে তাহলে কমমেন্ট করে জানাবেন। পাসপোর্ট নিয়ে এই আর্টিকেলে আরো কিছু তথ্য লিখবো পরে। আজ আর নয়। ভালো থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + sixteen =

Scroll to Top