November 29, 2020

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম ২০২০

Spread the love

বিকাশ একাউন্ট খুব জনপ্রিয় একটি লেনদেনের মাধ্যম। তাই প্রতিদিন হাজার হাজর মানুষ বিকাশ একাউন্ট খুলে থাকে। আবার অনেক অসাধু মানুষ বিকাশে প্রতারণা করে থাকে। এমনকি অনেকে অনেক সমস্যায় পড়ে থাকে। তাই চিন্তিত না হয়ে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম ২০২০ জেনে নিন।

আবার অনেকের বিকাশ একাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকে। তাই বিভিন্ন কারণে আমাদের বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার দরকার হয়। তাই আজকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

দেশের অসংখ্য মানুষ মোবাইল ব্যাঙ্কিং লেনদেনের সুবিধার জন্য বিকাশ ব্যবহার করেন। কিন্তু কিছু বিকাশ ব্যবহার কারী আছে তারা অনেক সমস্যাই ভুগেন, তার মধ্যে একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করা নিয়ে।

অনেকে বিকাশ সীম হারিয়ে ফেলে। আবার অনেকের বিকাশ একাউন্ট সিম চুরি হয়ে যায়। আবার দেখা যায় আপনার বিকাশ একাউন্ট অন্যর আইডি কার্ড দিয়ে খোলা। এমনকি বিভিন্ন কারণে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চায়।

বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষ বিকাশ একাউন্ট খুব সহজে খুলে থাকে। কিন্তু আবার খুব সহজে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ ও করা যায়। বিকাশ একাউন্ট অনেকে খুলতে পারে, কিন্তু বিকাশ একাউন্ট বেশির ভাগ মানুষ বন্ধ করতে পারে না।

এছাড়া অনেকে পুরাতন বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে নুতুন একাউন্ট বানাতে চাই। আবার বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করে নগদ, রকেট, অন্য মোবাইল ব্যাঙ্কিং ব্যবহার করতে চান। আরও নানান কারণে বিকাশ একাউন্ট ডিলিট করতে চায়।

উপরে উল্লেখিত সমস্যা গুলো যারা ভুগছেন, এবং চিন্তা করছেন। তাদের উদ্দেশ্য আমার এই আর্টিকেল লেখা। চিন্তার কোনো কারন নেই, নিচে আমি বিস্তারিত লেখে ছিলাম কিভাবে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করবেন।

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে কি কি লাগে?

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে হলে ৩ টি জিনিস প্রয়োজন হবে। তাহলে জেনে নিন –

১) আপনার বিকাশ একাউন্ট যে এনআইডি কার্ড দিয়ে খোলা হয়েছে, ঐ কার্ড নিয়ে বিকাশ অফিস এ ভিসিট করতে হবে। আর যদি আপনার কোনো ফ্যামেলী মেম্বার যথা বাবা, মা, ভাই, বোন এর NID কার্ড ব্যবহার করে থাকেন তাহলে তাকেও অফিসে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। 

২) বিকাশ একাউন্ট ডিলিট করার আগে সেই একাউন্টের ব্যালেন্স (০) করে দিতে হবে।

৩) সিম কার্ড সহ মোবাইল (অতিরিক্ত)

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম কানুন

বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

আপনারা জেনে গেছেন যে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে কি কি লাগবে। অর্থাৎ একটি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে হলে সেই বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স শূন্য (০) হতে হবে। ব্যালেন্সে কোন টাকা থাকা যাবে না।

যদি আপনার বিকাশ একাউন্টে ব্যালেন্স থাকে, তাহলে আগে এটিকে শুন্য করে নিন। আপনি আপনার নাম্বারে রিচার্জ করে নিতে পারেন। অথবা কারো মোবাইলে কেশ আউট, বা সেন্ড মানি করে ব্যালেন্স (০) করে নিতে হবে।

এখন আপনার ব্যালেন্স শূন্য। তারমানে আপনি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার জন্য একধাপ এগিয়ে গেলেন। এরপর যার নামে একাউন্ট খোলা তার আইডি কার্ড এর মূল কপি নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিকাশ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যেতে হবে।

যার আইডি কার্ড তাকে নিয়ে যেতে হবে। কারন আপনি বিকাশ একাউন্ট তার আইডি কার্ড দিয়ে খোলা হয়েছে। তাই অবশ্যই যার এনআইডি কার্ড তাকে নিতে হবে। সাথে মোবাইল নাম্বার সহ নিতে হবে।

আপনার সিম কার্ড প্রয়োজন হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তবে সাথে করে সিম কার্ডটি নিয়ে যাবেন। আশা করি আপনি কোনো ঝামেলায় পড়বে না। খুব সহজে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে পারবেন।

গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার আইডি কার্ড থেকে মালিকানা নিশ্চিত করবেন এবং আপনার অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন

এছাড়া আপনার আর বেশি কিছু করতে হবে না। এই হলো বিকাশ একাউন্ট ডিলিট বা বন্ধ করার প্রক্রিয়া। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন।

আরো পড়ুনঃ ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট খুলুন খুব সহজে।

বিকাশের পিন ভুলে গেলে কি করবেন?

আমাদের দেশে অসংখ্য মানুষ বিকাশের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে থাকে। হঠাৎ কোনো কারনে বিকাশের পিন ভুলে গেলে চিন্তায় পড়ে যায়। বিভিন্ন মানুষকে দেখায়। বা অনেকের কাছে নিয়ে যায়। চিন্তার কোনো কারন নেই। আপনি খুব সহজে নতুন পিন নাম্বার নিতে পারবেন।

অনেকে বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করতে চায়। এক্ষেত্রে তার একাউন্টের ব্যালেন্স ০ করা লাগবে। কিন্তু তার পিন নাম্বার মনে নাই। সুতরাং আপনার বিকাশের পিন ভুলে গেলে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স শূন্য করা সম্ভব হবে না। যেহেতু একাউন্টের টাকা খরচ করতে হলে পিন নাম্বার লাগবে তাহলে এই অবস্থায় কি করবেন?

খুবই সহজ, চিন্তার কোন বিষয় নেই। এক্ষেত্রে আমরা আপনাদেরকে একটি ছোট্ট টিপস দিচ্ছি আপনি অব্যশই পারবেন। এক্ষেত্রে আপনি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম ২০২০ সম্পর্কে জেনে রাখুন। তাহলে আরো সহজে বুঝতে পারবেন।

প্রথমে বিকাশের পিন রিসেট বা পরিবর্তন করে নিন। এরপর রিসেট করা পিন ব্যবহার করে বিকাশ একাউন্টের ব্যালেন্স (০) করে নিন। ঝামেলা মুক্ত খুব সহজে জেনে গেলেন।

বিকাশ একাউন্ট নাম পরিবর্তন কিভাবে করবেন?

অনেকে বিকাশ একাউন্টের নাম নিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়ে থাকে। তাই নাম পরিবর্তন নিয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করে থাকে। আপনার চিন্তিত হওয়ার কোনো কারন নেই। আপনি খুব সহজে বিকাশের নাম পরিবর্তন করতে পারবেন। তাহলে জেনে নিন।

এই সমস্যা টি নিয়ে কাস্টমার কেয়ারে কল করলে সেখানে আমাকে জানানো হলো, একাউন্টের নাম পরিবর্তন বা মালিকানা পাল্টানোর আগে সেই একাউন্ট ডিএক্টিভ করতে হবে। তার জন্য উপরের নিয়ম গুলো অনুকরণ করতে হবে। এবং অবশ্যই ব্যালেন্স (০) করতে হবে।

তারপর সেই অ্যাকাউন্ট পুনরায় যার নামে খুবলেন তার পাসপোর্ট ছবি ও NID কার্ড টির প্রয়োজন পড়বে। তাই আপনারা অফিসে যাওয়ার আগে যার একাউন্ট তাকে ও যার নামে একাউন্ট পরিবর্তন হবে দুজনেই  NID কার্ড সঙ্গে নিয়ে বিকাশ অফিসে ভিসিট করুন। আর হ্যা, মনেকরে যার নামে একাউন্ট পরিবর্তন হবে তার পাসপোর্ট ছবি নিয়ে যেতে ভুলবেন না।

সর্বশেষ বিকাশ ক্যাশ আউট ক্যাশ ইনের ৬ টি তথ্য দেখুন

সর্বশেষ লেনদেনের ৬ টি তথ্য

অনেকে বিকাশে লেনদেন করে থাকে। কেউ কেউ বিকাশের টাকা ক্যাশ আউট করে থাকে। আবার কেউ ক্যাশ ইন করে থাকে। এমন কি কেউ সেন্ড মানি, রিচার্জ করে থাকে।

এতে অনেকের ভূলে টাকা অন্য নাম্বারে ও চলে যায়। কেউ বা বলে দোকানদারকে টাকা ক্যাশ আউট করে দিয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে দোকান দার এর কাছে টাকা আসে নাই। হয়তো ভূলে অন্য নাম্বারে চলে গেছে। এতে বিকাশের টাকা লেনদেন নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়ে থাকে।

এক কথায় বলা যায়, মানুষ বলতে ভূল আছে। আবার অনেকের মোবাইলে টাকা চলে এসেছে কিন্ত টাকার ম্যাসেজ আসে নাই। এমনকি অনেকের ম্যাসেজ ভূলে ডিলেট হয়ে গেছে।

অনেকের সর্বশেষ টাকা লেনদেনের কোনো তথ্য খুজে পায় না। অযথা চিন্তার প্রয়োজন নেই। তাহলে শুরু করা যাক কিভাবে সর্বশেষ টাকা লেন দেনর তথ্য বের করা যায়।

প্রথমে আপনি আপনার মোবাইলে ডায়েল করেন *247#।
তারপর আপনি খালি ঘরে 7 দিয়ে মাই বিকাশে অপশনে চলে যান। এরপর 2 দিয়ে রিকুয়েষ্ট স্টেটমেন্ট অপশনে চলে যান।

তারপর খালি ঘরে আপনার বিকাশ একাউন্টের পিন নাম্বার দিয়ে দিন। তারপর খুব সহজে আপনার টাকা লেনদেনের সর্বশেষ ৬ টি তথ্য পেয়ে যাবেন। আশা করি আপনি খুব সহজে বুঝতে পারছেন। আমার পোস্টি পড়ে যদি আপনি উপকৃত হয়ে থাকে। তাহলে কমমেন্ড করে জানাবেন।

পার্শ্ববর্তী বিকাশ গ্রাহকসেবা কোথায়?

যেকোন সহযোগিতা পেতে ও পার্শ্ববর্তী বিকাশ গ্রাহক সেবার ঠিকানা জানতে বিকাশ হেল্পলাইন 16247 এ কল করুন।

সর্বশেষ কথা,আশা করি এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি কিছুটা হলে উপকৃত হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × two =